অরক্ষিত অবস্থায় সন্দ্বীপের ৩৩ হাজার ভোল্ট সাবমেরিন ক্যাবল, দুর্ঘটনার শঙ্কা
চট্টগ্রামের বিচ্ছিন্ন দ্বীপাঞ্চল সন্দ্বীপে সাগরের তলদেশ দিয়ে আনা ৩৩ হাজার ভোল্ট ক্ষমতাসম্পন্ন দুটি সাবমেরিন ক্যাবল বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
সরেজমিনে সন্দ্বীপের বাউরিয়া ইউনিয়নে গিয়ে দেখা যায়, যেপয়েন্ট দিয়ে ক্যাবল দুটি প্রবেশ করানো হয়েছে, সেখানে বর্ষা মৌসুমে নদীর ঢেউয়ের আঘাতে মাটি সরে গেছে। ফলে ক্যাবল দুটি উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে এবং স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে।
এ অবস্থায় স্থানীয় কিছু যুবক অসচেতনভাবে ক্যাবলের ওপর লাফালাফি করছে। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও নেটিজেনদের মাঝে ভাইরাল হয়েছে, যা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সন্দ্বীপের নির্বাহী প্রকৌশলী তানভীর আহমেদ চৌধুরী বলেন, “বিষয়টি জানার পর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ ধরনের একটি ভিডিও তিনি দেখতে পেলে রবিবার সকালে একজন স্টাফ পাঠিয়ে ঘটনার সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হন।
তিনি আরও জানান, সাবমেরিন ক্যাবলের অরক্ষিত অংশটি দ্রুত সুরক্ষিত করার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, সীতাকুণ্ডের সৈয়দপুর ইউনিয়ন অংশ থেকে প্রায় ১৬ কিলোমিটার সাগরের তলদেশে ১৮ থেকে ৩০ ফুট গভীরে সন্দ্বীপের বাউরিয়া পর্যন্ত ৩৩ হাজার ভোল্টের দুটি সাবমেরিন ক্যাবল বসানো হয় ২০১৮ সালে। ২০১৯ সালের ৬ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংযোগের উদ্বোধন করেন।
পিডিবির তত্ত্বাবধানে ১৪৪ কোটি টাকা ব্যয়ে এই সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপনের কাজ করে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জেডটিটি (ZTT)। ২০১৪ সালের ১০ সেপ্টেম্বর একনেকে প্রকল্পটি অনুমোদনের পর আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি কাজটি পায়।
সাগরের তলদেশে ১৬ কিলোমিটার জুড়ে স্থাপিত এই দুটি ক্যাবলের প্রতিটিতে রয়েছে তিনটি কোর ও একটি অপটিক্যাল ফাইবার। একটি ক্যাবলে সমস্যা দেখা দিলে বিকল্প হিসেবে অন্যটি ব্যবহারের জন্যই দুটি ক্যাবল বসানো হয়েছে। এ দুটি ক্যাবলের মাধ্যমে মোট ৬০ মেগাওয়াট (প্রতিটি ৩০ মেগাওয়াট) বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব।
বর্তমানে ক্যাবল দুটি উন্মুক্ত হয়ে পড়ায় যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

