হঠাৎ জাহাজ চলাচল বন্ধ, স্পিডবোটে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ

হঠাৎ জাহাজ চলাচল বন্ধ, স্পিডবোটে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ১১ জুন ২০২৬, ৭: ২৮ পি.এম

চট্টগ্রামের বিচ্ছিন্ন দ্বীপাঞ্চল সন্দ্বীপে চলাচলকারী বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) একমাত্র যাত্রীবাহী জাহাজ এমভি মালঞ্চ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো যাত্রী। এদিকে জাহাজ চলাচল বন্ধের সুযোগে কুমিরা-গুপ্তছড়া নৌপথে স্পিডবোটে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।

প্রতিদিনের মতো গতকাল বিকেল ৫টায় এমভি মালঞ্চের মাস্টার আমির হোসেন জাহাজের নির্ধারিত সময়সূচি ঘোষণা করেন। তবে সন্ধ্যা ৭টায় পুনরায় এক বিজ্ঞপ্তিতে তিনি জানান, কারিগরি ত্রুটির কারণে চট্টগ্রামের গুপ্তছড়া-বাঁশবাড়িয়া নৌরুটে জাহাজ চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে।

সাগরে বৈরী আবহাওয়া ও ৩ নম্বর সতর্ক সংকেতের কারণে টানা দুই দিন বন্ধ থাকার পর গত ১০ জুন এ নৌরুটে জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু হয়। কিন্তু যাত্রীবাহী জাহাজে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল থেকে আবারও চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

সকালে নির্ধারিত সময়ে সন্দ্বীপের গুপ্তছড়া ঘাট থেকে এমভি মালঞ্চের ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও কারিগরি সমস্যার কারণে যাত্রা বাতিল করা হয়। পরে জাহাজটি ঘাটে রেখে জরুরি ভিত্তিতে মেরামতকাজ শুরু করা হয়।

এমভি মালঞ্চের মাস্টার আমির হোসেন বলেন, “জাহাজের গিয়ারে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় আজকের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। দ্রুত মেরামতের কাজ চলছে। তবে জাহাজটি কবে নাগাদ পুনরায় চলাচল শুরু করতে পারবে, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।”

বাঁশবাড়িয়া-গুপ্তছড়া নৌরুটে যাত্রীবাহী জাহাজের পাশাপাশি ফেরির মাধ্যমে যাত্রী ও যানবাহন পরিবহন করা হয়। এছাড়া কুমিরা-গুপ্তছড়া রুটে স্পিডবোট ও ট্রলারের মাধ্যমেও যাত্রী পারাপার হয়ে থাকে। তবে বর্ষা মৌসুমে উত্তাল সাগর ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে স্পিডবোট ও ট্রলারে যাতায়াত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। ফলে অধিকাংশ যাত্রী নিরাপদ ও তুলনামূলক স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াতের জন্য জাহাজ ও ফেরির ওপর নির্ভরশীল।

এদিকে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় কুমিরা ঘাটে যাত্রীর চাপ বেড়ে যায়। এ সুযোগে স্পিডবোটে নির্ধারিত ২৬০ টাকার পরিবর্তে ৩০০ টাকা ভাড়া আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন যাত্রী সাজুল কবির সায়েদ। তিনি বলেন, “সকালে কুমিরা ঘাটে যাত্রীদের ভিড় ছিল। কাউন্টারে টিকিট বিক্রেতা আলমগীর ৩০০ টাকার কমে কোনো টিকিট দেওয়া হবে না বলে জানান।”

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে টিকিট বিক্রেতা আলমগীরের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

যাত্রীরা জানান, বর্ষা মৌসুমে জাহাজ ও ফেরিই তাদের একমাত্র ভরসা। তাই দ্রুত এমভি মালঞ্চের মেরামতকাজ শেষ করে নৌপথে স্বাভাবিক যাত্রী পরিবহন ব্যবস্থা পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছেন তারা।

tvsandwip

Related articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *