নিজস্ব প্রতিবেদক, ৯ মার্চ ২৬, সময়: ২:০৪ পি. এম
চট্টগ্রামের বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপে যাতায়াতের অন্যতম প্রধান মাধ্যম নৌ-পথ। সন্দ্বীপের (গুপ্তছড়া–কুমিরা) নৌ-রুটে প্রতিদিন যাত্রী ও মাল পরিবহনে স্পিডবোট, কাঠের বোট ও মালবাহী নৌযান চলাচল করে। তবে অকটেন সংকটের কারণে আজ এ নৌ-রুটে যাত্রীবাহী স্পিডবোট চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
বিষয়টি স্পিডবোট পরিচালনা কোম্পানি, তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এক বিবৃতির মাধ্যমে আজ সকালে জানায়, বৈশ্বিক তেলের বাজারে অস্থিরতার প্রভাব পড়েছে দেশের জ্বালানি সরবরাহেও। এর ফলে অকটেনের তীব্র সংকট দেখা দেওয়ায় সোমবার সকাল থেকে গুপ্তছড়া–কুমিরা নৌ-রুটে স্পিডবোট চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। ।
এ বিষয়ে মুঠোফোনে মের্সাস আর.কে এন্টারপ্রাইজের পরিচালক জগলুল হোসেন নয়ন বলেন, গত বৃহস্পতিবার আমরা তেল এনেছিলাম। গতকাল আবার তেল সংগ্রহের জন্য পে-অর্ডার নিয়ে গিয়েছিলাম, কিন্তু সেটি ফেরত দেওয়া হয়েছে। শহরের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে আগে যেখানে ১০ ভাউচারে তেল দেওয়া হতো, এখন দেওয়া হচ্ছে অর্ধেক ভাউচার, প্রায় ৪৫০০ লিটার। আবার হাইওয়ে এলাকার পাম্পগুলোতে কোনো অকটেনই দেওয়া হচ্ছে না।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে তাদের কাছে প্রায় এক থেকে দেড় হাজার লিটার অকটেন মজুদ রয়েছে, যা জরুরি প্রয়োজনে রোগী পরিবহনের জন্য সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে। আমাদের ডিউ রয়েছে। তেল সরবরাহ পেলেই আবার স্পিডবোট চালু করা হবে। এটি জাতীয় সমস্যা, সবাইকে বিষয়টি বুঝতে হবে,বলেন তিনি।
এদিকে সকাল থেকে স্পিডবোট চলাচল বন্ধ ঘোষণার পর সন্দ্বীপের বাসিন্দারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করছেন।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী মিজানুর রহমান টিটু ঢাকা থেকে সন্দ্বীপ যাওয়ার উদ্দেশ্যে রেলযোগে চট্টগ্রাম পৌঁছান। কিন্তু ঘাট কর্তৃপক্ষের ফেসবুক স্ট্যাটাসে স্পিডবোট চলাচল বন্ধের ঘোষণা দেখে তিনি হতাশা প্রকাশ করেন।
মুঠোফোনে তিনি বলেন, ঈদের আগে হঠাৎ করে স্পিডবোট বন্ধ হওয়ায় ঘাটে অনেক যাত্রী আটকে পড়ছেন। স্পিডবোট না থাকায় এখন বাধ্য হয়ে কাঠের বোট সার্ভিস বা মালবাহী বোটে করেই সন্দ্বীপ যেতে হবে।
সরকারি সংস্থা বিআইডব্লিউটিসির পরিচালিত শীপ মালঞ্চ এবং ফেরি কপোতাক্ষ চলাচল করেছে (বাঁশবাড়িয়া-গুপ্তছড়া) নৌ রুটে।
