Wednesday , February 21 2024
Breaking News

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ১৩ বছর

ভয়াল ২১ আগস্ট আজ। আওয়ামী লীগের সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার ১৩ বছর। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ২০০৪ সালের এই দিনে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে তখনকার বিরোধীদলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়।হামলায় শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ স্থানীয় নেতারা অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান। কিন্তু গ্রেনেডের আঘাতে নিহত হন দলের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভী রহমানসহ ২৪ জন। আহত হন আরো প্রায় ৫শতাধিক। যাদের অনেকেই চিরতরে পঙ্গু হয়ে গেছেন।

বর্বরোচিত এই গ্রেনেড হামলায় নিহতরা হলেন- আইভি রহমান, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী ল্যান্স করপোরাল (অব:) মাহবুবুর রশীদ, আবুল কালাম আজাদ, রেজিনা বেগম, নাসির উদ্দিন সরদার, আতিক সরকার, আবদুল কুদ্দুস পাটোয়ারি, আমিনুল ইসলাম মোয়াজ্জেম, বেলাল হোসেন, মামুন মৃধা, রতন শিকদার, লিটন মুনশী, হাসিনা মমতাজ রিনা, সুফিয়া বেগম, রফিকুল ইসলাম (আদা চাচা). মোশতাক আহমেদ সেন্টু, মোহাম্মদ হানিফ, আবুল কাশেম, জাহেদ আলী, মোমেন আলী, এম শামসুদ্দিন এবং ইসাহাক মিয়া।২০০৪ সালের ২১ আগস্ট দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সমানে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী শান্তি সমাবেশে বক্তব্য দিচ্ছিলেন শেখ হাসিনা। তার বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে আকস্মিক গ্রেনেড হামলা শুরু হয়।শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই এই সিরিজ গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। ঢাকা’র তখনকার মেয়র মোহাম্মদ হানিফ এবং শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত দেহরক্ষী তাৎক্ষণিকভাবে মানবঢাল তৈরি করে তাকে গ্রেনেডের হাত থেকে রক্ষা করেন।শরীরে গ্রেনেডের সেল নিয়ে ব্যাংকক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মেয়র মোহাম্মদ হানিফ। আর শেখ হাসিনা হামলা থেকে বেঁচে গেলেও গুরুতর আঘাত পান তার শ্রবণ শক্তিতে।আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়- এই ভয়াবহ হামলার বিষয়ে নির্লিপ্ত ভূমিকা পালন করেছিল তখনকার বিএনপি-জামাত জোট সরকার। শুধু তাই নয় হামলার সঙ্গে জড়িতদের বাঁচাতে ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হয়। আলামত নষ্ট করতে ধ্বংস করা হয় ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া ৫টি গ্রেনেড।ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয় জজ মিয়া নামে এক ভবঘুরে, এক ছাত্র ও আওয়ামী লীগ কর্মীসহ ২০ জনকে। পরবর্তী তদন্তে তাদের কারো বিরুদ্ধেই অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।২০০৮ সালের ১১ জুলাই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২১ আগস্টের ঘটনায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে আলাদা দু’টি মামলায় প্রথম চার্জশিট দাখিল করা হয়। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু এবং ২১ জন হুজি নেতাকর্মীসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করা হয়।নতুন করে তদন্তের পরে ২০১২ সালের ৩ জুলাই অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ৩০ জনকে অভিযুক্ত করে আলাদা দু’টি সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করে। দু’টি মামলায় মোট অভিযুক্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫২।বর্তমানে আলোচিত এ মামলার বিচার কাজ শেষ পর্যায়ে। আসামি পক্ষের ১৩ জনের সাফাই সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। আরো ৮ থেকে ১০ জনের সাফাই সাক্ষী নেয়া হবে। পরে উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে রায় ঘোষণা করা হবে।মামলায় মোট ৪শ’ ৯১জন সাক্ষী ছিলেন। এরমধ্যে দুই তদন্ত কর্মকর্তাসহ ২শ’ ২৫ জনের সাক্ষ্য নেয়া হয়। অভিযুক্ত ৫২ আসামিদের মধ্যে এখনও ১৯জন পলাতক রয়েছেন।২০০৪ সালের পর থেকে আওয়ামী লীগসহ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসীরা ২১ আগস্টকে গ্রেনেড হামলা দিবস হিসেবে পালন করে আসছে। প্রতিবারের মত এবারও আওয়ামী লীগ দিবসটি স্মরণে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।দিবসটি উপলক্ষ্যে সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টায় কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তন আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আলোচনা সভা হবে। দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতে সভাপতিত্ব করবেন। বক্তব্য রাখবেন দেশের বরেণ্য বুদ্ধিজীবী ও জাতীয় নেতৃবৃন্দ। এছাড়াও সারা দেশে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলো বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে।

 

 

সূত্র: rtvonline

About tvsandwip

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *